বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
লাল খাবারেই লুকিয়ে হৃদয় সুস্থ রাখার সহজ উপায়!
অনলাইন ডেস্ক
লাল রঙের কিছু খাবার আছে যেগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পুষ্টি ও প্রদাহ-বিরোধী গুণে ভরপুর। এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কার্যকর। আশ্চর্যের কিছু নেই—এই খাবারগুলো আপনার চেনা! বরং প্রতিদিনের খাবারে এর কোনো না কোনোটি ঠিকই থেকে যায়। হার্ট সুস্থ রাখতে হলে এসব খাবারের মধ্যে অন্তত একটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। কিন্তু কোন খাবারগুলো সেরা? চলুন জেনে নিই—
টমেটো
টমেটোর লালচে রঙের পেছনে থাকে লাইকোপিন নামের এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে, ধমনিতে প্লাক জমা ঠেকাতে এবং রক্তচাপ হ্রাসে ভূমিকা রাখে। রান্না করা টমেটো শরীরে লাইকোপিন শোষণ বাড়ায়। তাই টমেটো স্যুপ বা পাস্তা সস হতে পারে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এমনকি সালাদে কাঁচা টমেটো খেলেও মিলবে উপকার।
বিট
স্বাদে অনেকে না পছন্দ করলেও বিটের গুণে ভুল করার সুযোগ নেই। বিটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়, যা রক্তনালী শিথিল করে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। এর ফলে রক্তচাপ কমে, রক্ত চলাচল মসৃণ হয় এবং হার্টের উপর চাপ কমে। বিটে ফোলেট, ফাইবার ও পটাসিয়ামও থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
লাল আপেল
“প্রতিদিন একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে”—এই কথাটি আরও বেশি সত্য যদি তা হয় লাল আপেল। এতে থাকা কোয়ারসেটিন নামের ফ্ল্যাভোনয়েড প্রদাহ কমায় ও রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। আপেলের দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল আটকে শরীর থেকে বের করে দেয়। আপেলের খোসাতেই রয়েছে এর মূল উপকার, তাই খোসা না ছাড়িয়ে খান! নিয়মিত খেলে এটি স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সহায়ক।
লাল আঙুর
লাল আঙুরে থাকা রেসভারট্রোল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা উন্নত করে, রক্তনালীর নমনীয়তা বাড়ায় এবং প্রদাহ কমায়। আস্ত আঙুর খেলে আপনি পাবেন ফাইবারের পূর্ণ সুবিধা এবং প্রাকৃতিক চিনির ভারসাম্যও বজায় থাকবে। এই ফল ধমনীর ভেতরের আস্তরণকে রক্ষা করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
স্ট্রবেরি
ভিটামিন সি, অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনলসমৃদ্ধ স্ট্রবেরি প্রদাহ কমায়, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ায় এবং রক্তচাপ কমায়। হার্ভার্ডের এক গবেষণায় জানা গেছে, যাঁরা সপ্তাহে তিনবার বা তার বেশি স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরি খান, তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩২% কমে যায়। তাই তালিকায় রাখতে পারেন এই সুস্বাদু ফলটিকে।